হিন্দু-মুসলিম দুটি ভাই
ভারতের দুই আঁখিতারা।
এক বাগানের দুটি তরু
দেবদারু আর কদমচারা।
যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী
যায় গো বহে নিরবধি।
এক হিমালয় হতে আসে
এক সাগরে হয় গো হারা।
উদ্দীপকে 'আমার পরিচয়' কবিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আবহমান বাংলা অভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ঋদ্ধ। বাংলার ভূখণ্ডে নানা জাতি-ধর্মের লোক বাস করে। কিন্তু জাতি-ধর্মের পার্থক্য এখানকার মানুষের জীবনে কোনো দেয়াল তৈরি করেনি। একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বেঁধে তারা জীবন অতিবাহিত করছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি পরিলক্ষিত হয়। কবি এখানে হিন্দু-মুসলমানকে ভারতের দুটি ভাই এবং দেশমাতার দুই চোখের তারা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গঙ্গা ও সিন্ধু নদীর উৎসমূল যেমন এক হিমালয় তেমনই হিন্দু-মুসলিমও একই বৃন্তের দুটি ফুল। উদ্দীপকের মতো এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে 'আমার পরিচয়' কবিতায়। চর্যাপদের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার যে অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এ কবিতায়। যুগে যুগে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহ আর মতাদর্শের বিকাশ হতে হতে আমরা এসে পৌঁছেছি আজকের বাংলায়। কবিতার এ দিকটির ইঙ্গিত করা হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে।
আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?”
আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। ।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে ।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে ।
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।
আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে ।
এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে ।
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে ।
আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা' থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে ।
এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে ।
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে ।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে ।
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।
আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে ।
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?”
তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই –
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই –
সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?